Saturday, October 15, 2016
বাণিজ্যে পিছিয়ে সার্ক দেশগুলো
Saturday, October 15, 2016 by Unknown
বাণিজ্যে পিছিয়ে সার্ক দেশগুলো
বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না এ অঞ্চলের দেশগুলোর সংগঠন সাউথ
এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজোনাল কো-অপারেশন (সার্ক)। যে কোনো আঞ্চলিক
সংগঠনের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে এ সংগঠনের সদস্যভুক্ত দেশগুলো। এ ক্ষেত্রে বড়
বাধা সুশাসন। আঞ্চলিক বাণিজ্য এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের তেমন সদিচ্ছাও
নেই। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ
বাড়াতে হবে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) নির্বাহী
পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে অর্থনৈতিকভাবে
পিছিয়ে রয়েছে এ দেশগুলো। তিনি বলেন, দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও
আস্থার অভাব রয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাঝে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার
অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, দেশগুলো সামষ্টিক স্বার্থের চেয়ে দ্বি-পাক্ষিক
স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, এখনও সব দেশের স্পর্শকাতর পণ্যের
তালিকা অনেক বড়। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে ভৌত কানেকটিভিটির (ফিজিক্যাল
কানেকটিভিটি) পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক যোগাযোগও (মেন্টাল কানেকটিভিটি)
প্রয়োজন। দেশগুলোর মধ্যে অবাধ পরিবহন যোগাযোগ তৈরি হলে মানুষেরও অবাধ
যাতায়াত বাড়বে। এতে সবাই লাভবান হবে।
জানা গেছে, বর্তমানে সার্কভুক্ত ৮ দেশের বার্ষিক রফতানির পরিমাণ ২৮০ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে শুধু চীনের রফতানি ২ হাজার ৩০ বিলিয়ন ডলার। মালয়েশিয়ার রফতানি ২৯৫ বিলিয়ন ডলার। একইভাবে সিঙ্গাপুরের রফতানি আয় ৩৯০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ৮টি দেশের রফতানি আয়ের চেয়ে এশিয়ার এই ৩টি দেশের একক রফতানি অনেক বেশি। অথচ বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জনশক্তি রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। ভৌগোলিক সীমানার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে দেশগুলো। রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ। কিন্তু এ সবের তেমন কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অনুসারে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আন্তঃবাণিজ্য ৫২ শতাংশ, ল্যাটিন আমেরিকায় ১৭ শতাংশ, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় মাত্র ৫ শতাংশ। সার্কভুক্ত ৮ দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা এবং আফগানিস্তানের জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। ভৌগোলিক সীমানার দিক থেকেও ব্যাপক বিস্তার এই অঞ্চলের। কিন্তু পিছিয়ে রয়েছে অর্থনৈতিক দিক থেকে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে বর্তমানে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, পাকিস্তান সাড়ে ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মালদ্বীপ ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নেপাল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ভুটান ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, শ্রীলংকা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আফগানিস্তান ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়াও সার্কভুক্ত আট দেশের মোট রফতানি আয় ২৮০ বিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে ভারতের ১৮২ বিলিয়ন ডলার, পাকিস্তানের ১৯ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশের ৩৪ বিলিয়ন ডলার এবং শ্রীলংকার ২৯ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে শুধু মালয়েশিয়ার রফতানি ২৯৫ বিলিয়ন ডলার। একইভাবে সিঙ্গাপুরের রফতানি আয় ৩৯০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ৮টি দেশের রফতানি আয়ের চেয়ে এশিয়ার এই দুটি দেশের একক রফতানি অনেক বেশি।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, সার্কভুক্ত দেশগুলোতে প্রচুর পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। প্রতি বছর এ অঞ্চলে জ্বালানি চাহিদা ৭ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিপরীতে শুধু ভারতের কাছে ৫৫৭ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন তেল মুজদ আছে। পাকিস্তানের কাছে মজুদ আছে ৩৬০ কোটি মেট্রিক টন। পাশাপাশি গ্যাসের এ অঞ্চলে প্রচুর রিজার্ভ রয়েছে। আফগানিস্তানের কাছে ১২০ বিলিয়ন ঘন মিটার এবং পাকিস্তানের কাছে ৭ হাজার ৯৮৫ ঘন মিটার গ্যাস মজুদ আছে। এ ছাড়াও ভুটান, নেপাল এবং অন্য দেশগুলোতে ৪ লাখ ৩৭ হাজার মেগাওয়াট হাইড্রো পাওয়ার রয়েছে। বর্তমানে এখান থেকে মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু এরপরও জ্বালানির জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোর আমদানির উপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া এ অঞ্চল প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। অন্যদিকে এ অঞ্চলে ১৫০ কোটি জনশক্তি রয়েছে। ফলে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় শ্রমিকের মজুরি কম। সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ভারতকে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। কেননা ভারতের অর্থনীতি বেশ বড়। বাণিজ্য সম্প্রসারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একে অন্যের কাছে শুল্কমুক্ত সুবিধা চায়, কারণ এই অঞ্চলে বিশাল বাজার রয়েছে বিশেষ করে ভারতে।
এ ক্ষেত্রে ভারতসহ বড় দেশগুলোকে আরও উদার হতে হবে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশের মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এসব যোগাযোগের মধ্যে রয়েছে-সড়ক, রেল, বিমান এবং নৌযোগাযোগ। এ ছাড়াও পর্যটন, স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষার উন্নয়নে এক দেশ অন্য দেশকে সহায়তা করবে।
Tags:
economy
জানা গেছে, বর্তমানে সার্কভুক্ত ৮ দেশের বার্ষিক রফতানির পরিমাণ ২৮০ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে শুধু চীনের রফতানি ২ হাজার ৩০ বিলিয়ন ডলার। মালয়েশিয়ার রফতানি ২৯৫ বিলিয়ন ডলার। একইভাবে সিঙ্গাপুরের রফতানি আয় ৩৯০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ৮টি দেশের রফতানি আয়ের চেয়ে এশিয়ার এই ৩টি দেশের একক রফতানি অনেক বেশি। অথচ বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জনশক্তি রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। ভৌগোলিক সীমানার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে দেশগুলো। রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ। কিন্তু এ সবের তেমন কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অনুসারে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আন্তঃবাণিজ্য ৫২ শতাংশ, ল্যাটিন আমেরিকায় ১৭ শতাংশ, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় মাত্র ৫ শতাংশ। সার্কভুক্ত ৮ দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা এবং আফগানিস্তানের জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। ভৌগোলিক সীমানার দিক থেকেও ব্যাপক বিস্তার এই অঞ্চলের। কিন্তু পিছিয়ে রয়েছে অর্থনৈতিক দিক থেকে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে বর্তমানে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, পাকিস্তান সাড়ে ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মালদ্বীপ ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নেপাল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ভুটান ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, শ্রীলংকা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আফগানিস্তান ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়াও সার্কভুক্ত আট দেশের মোট রফতানি আয় ২৮০ বিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে ভারতের ১৮২ বিলিয়ন ডলার, পাকিস্তানের ১৯ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশের ৩৪ বিলিয়ন ডলার এবং শ্রীলংকার ২৯ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে শুধু মালয়েশিয়ার রফতানি ২৯৫ বিলিয়ন ডলার। একইভাবে সিঙ্গাপুরের রফতানি আয় ৩৯০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ৮টি দেশের রফতানি আয়ের চেয়ে এশিয়ার এই দুটি দেশের একক রফতানি অনেক বেশি।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, সার্কভুক্ত দেশগুলোতে প্রচুর পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। প্রতি বছর এ অঞ্চলে জ্বালানি চাহিদা ৭ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিপরীতে শুধু ভারতের কাছে ৫৫৭ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন তেল মুজদ আছে। পাকিস্তানের কাছে মজুদ আছে ৩৬০ কোটি মেট্রিক টন। পাশাপাশি গ্যাসের এ অঞ্চলে প্রচুর রিজার্ভ রয়েছে। আফগানিস্তানের কাছে ১২০ বিলিয়ন ঘন মিটার এবং পাকিস্তানের কাছে ৭ হাজার ৯৮৫ ঘন মিটার গ্যাস মজুদ আছে। এ ছাড়াও ভুটান, নেপাল এবং অন্য দেশগুলোতে ৪ লাখ ৩৭ হাজার মেগাওয়াট হাইড্রো পাওয়ার রয়েছে। বর্তমানে এখান থেকে মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু এরপরও জ্বালানির জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোর আমদানির উপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া এ অঞ্চল প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। অন্যদিকে এ অঞ্চলে ১৫০ কোটি জনশক্তি রয়েছে। ফলে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় শ্রমিকের মজুরি কম। সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ভারতকে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। কেননা ভারতের অর্থনীতি বেশ বড়। বাণিজ্য সম্প্রসারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একে অন্যের কাছে শুল্কমুক্ত সুবিধা চায়, কারণ এই অঞ্চলে বিশাল বাজার রয়েছে বিশেষ করে ভারতে।
এ ক্ষেত্রে ভারতসহ বড় দেশগুলোকে আরও উদার হতে হবে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশের মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এসব যোগাযোগের মধ্যে রয়েছে-সড়ক, রেল, বিমান এবং নৌযোগাযোগ। এ ছাড়াও পর্যটন, স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষার উন্নয়নে এক দেশ অন্য দেশকে সহায়তা করবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

0 Responses to “বাণিজ্যে পিছিয়ে সার্ক দেশগুলো”
Post a Comment