Friday, October 14, 2016
যশোরে ৮৭ হাজার পরিবার ১০ টাকার চাল বঞ্চিত
Friday, October 14, 2016 by Unknown
সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরের চাল পাওয়া থেকে
বঞ্চিত হয়েছেন যশোরের অন্তত ৮৭ হাজার ৪৬৬টি অসহায় পরিবার। জনপ্রতিনিধিরা
যথাসময়ে তালিকা প্রণয়ন করতে না পারায় সেপ্টেম্বর মাসে এসব পরিবার চাল
পায়নি। জনপ্রতিনিধিদের দ্বন্দ্ব ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির কারণে
তালিকা প্রণয়নে দেরি হচ্ছে। তবে এ নিয়ে খাদ্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের
পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, সরকার ১০ টাকা কেজি দরে ৫০ লাখ পরিবারের মাঝে প্রথম ধাপে তিন
মাস (সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর) চাল বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। ৭
সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী চাল বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। জনপ্রতিনিধিরা
তালিকা প্রণয়নে গড়িমসি করায় যশোর জেলায় প্রথম মাসে বিপুলসংখ্যক পরিবার
বিশেষ সুবিধায় চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গত মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে
তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হলেও যশোরের ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৩২টি পরিবারের
পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নে ব্যর্থ হন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা।
এজন্য সেপ্টেম্বর মাসে ৪৭ হাজার ৬৬৬ পরিবার ছাড়া বাকিরা চাল পাওয়া থেকে
বঞ্চিত হয়েছেন। দেড় মাস পরও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত হয়নি।
জেলা খাদ্য অফিস সূত্র জানায়, জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৩২ কার্ডধারী পরিবারকে ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়া হবে। এজন্য ২৪৭ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কার্ডধারীদের তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব ছিল জনপ্রতিনিধিদের ওপর। যথাসময়ে তালিকা প্রণয়ন না হওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে অধিকাংশ ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। গত মাসে জেলার মাত্র ৪৭ হাজার ৬৬৬টি কার্ডধারী পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বঞ্চিত হয়েছে ৮৭ হাজার ৪৬৬টি পরিবার।
এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে মোটেও চাল পায়নি সদর উপজেলার ১৮ হাজার ২৯০, ঝিকরগাছার ২২ হাজার ১৭৫ ও বাঘারপাড়ার ৯ হাজার ১৬৬ পরিবারের মধ্যে মাত্র ৩০ টন, চৌগাছার ১৪ হাজার ৯৯৭টি পরিবারের মাঝে ৩৪ টন ও মণিরামপুরে ২৩ হাজার ৪১৯ পরিবারে মাঝে মাত্র ৭ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ তিন উপজেলায় অধিকাংশ পরিবার চাল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কেশবপুরে ১২ হাজার ৯৮৪ পরিবারের মধ্যে ৩৩৬ টন, শার্শায় ১৭ হাজার ৬১৭ পরিবারে ৫২৮ টন, অভয়নগরে ৪৯৪.৪৯০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মুন্না বলেন, আমার পরিষদের সদস্যদের অধিকাংশই নতুন। দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তাদের ওপর বড় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে তালিকা তৈরি করতে গিয়ে কিছুটা দেরি হয়েছে। ইউনিয়নের দেড় হাজার পরিবারকে কার্ডভুক্ত করা হচ্ছে। হৈবতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নে তালিকা তৈরি করতে মোটেও দেরি হয়নি। যখন তালিকা চেয়েছে তখনই খাদ্য অফিসে সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু কার্ড পাওয়া যায়নি ঠিক সময়ে। এ কারণে আমার ইউনিয়নে সেপ্টেম্বরে চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তালিকাভুক্ত বহু পরিবার। তিনি আরও বলেন, তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে মেম্বারদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ পাচ্ছি। তারা স্বজনপ্রীতি করতে গিয়ে অনেক স্বাবলম্বী লোককে কার্ড দিয়েছেন। এ নিয়ে মেম্বারদের সতর্ক করেছি। শুধু চূড়ামনকাটি কিংবা হৈবতপুর ইউনিয়ন নয়, সদর উপজেলার ১৫টি ও ঝিকরগাছার ১১টি ইউনিয়নে সেপ্টেম্বরে চাল বিতরণ হয়নি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামাল হোসেন জানান, যথাসময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তালিকা না পাওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে যশোরে যৎসামান্য চাল বিতরণ হয়েছে। তবে অক্টোবর মাসে পুরোদমে চাল বিতরণ হবে। জেলার ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৩২টি কার্ডের বিপরীতে ইতিমধ্যে (১৩ অক্টোবর পর্যন্ত) ১ লাখ ১৭ হাজার ২৪০ কার্ডের তালিকা পাওয়া গেছে।
Tags:
Bangladesh
জেলা খাদ্য অফিস সূত্র জানায়, জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৩২ কার্ডধারী পরিবারকে ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়া হবে। এজন্য ২৪৭ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কার্ডধারীদের তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব ছিল জনপ্রতিনিধিদের ওপর। যথাসময়ে তালিকা প্রণয়ন না হওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে অধিকাংশ ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। গত মাসে জেলার মাত্র ৪৭ হাজার ৬৬৬টি কার্ডধারী পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বঞ্চিত হয়েছে ৮৭ হাজার ৪৬৬টি পরিবার।
এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে মোটেও চাল পায়নি সদর উপজেলার ১৮ হাজার ২৯০, ঝিকরগাছার ২২ হাজার ১৭৫ ও বাঘারপাড়ার ৯ হাজার ১৬৬ পরিবারের মধ্যে মাত্র ৩০ টন, চৌগাছার ১৪ হাজার ৯৯৭টি পরিবারের মাঝে ৩৪ টন ও মণিরামপুরে ২৩ হাজার ৪১৯ পরিবারে মাঝে মাত্র ৭ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ তিন উপজেলায় অধিকাংশ পরিবার চাল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কেশবপুরে ১২ হাজার ৯৮৪ পরিবারের মধ্যে ৩৩৬ টন, শার্শায় ১৭ হাজার ৬১৭ পরিবারে ৫২৮ টন, অভয়নগরে ৪৯৪.৪৯০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মুন্না বলেন, আমার পরিষদের সদস্যদের অধিকাংশই নতুন। দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তাদের ওপর বড় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে তালিকা তৈরি করতে গিয়ে কিছুটা দেরি হয়েছে। ইউনিয়নের দেড় হাজার পরিবারকে কার্ডভুক্ত করা হচ্ছে। হৈবতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নে তালিকা তৈরি করতে মোটেও দেরি হয়নি। যখন তালিকা চেয়েছে তখনই খাদ্য অফিসে সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু কার্ড পাওয়া যায়নি ঠিক সময়ে। এ কারণে আমার ইউনিয়নে সেপ্টেম্বরে চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তালিকাভুক্ত বহু পরিবার। তিনি আরও বলেন, তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে মেম্বারদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ পাচ্ছি। তারা স্বজনপ্রীতি করতে গিয়ে অনেক স্বাবলম্বী লোককে কার্ড দিয়েছেন। এ নিয়ে মেম্বারদের সতর্ক করেছি। শুধু চূড়ামনকাটি কিংবা হৈবতপুর ইউনিয়ন নয়, সদর উপজেলার ১৫টি ও ঝিকরগাছার ১১টি ইউনিয়নে সেপ্টেম্বরে চাল বিতরণ হয়নি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামাল হোসেন জানান, যথাসময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তালিকা না পাওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে যশোরে যৎসামান্য চাল বিতরণ হয়েছে। তবে অক্টোবর মাসে পুরোদমে চাল বিতরণ হবে। জেলার ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৩২টি কার্ডের বিপরীতে ইতিমধ্যে (১৩ অক্টোবর পর্যন্ত) ১ লাখ ১৭ হাজার ২৪০ কার্ডের তালিকা পাওয়া গেছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)


0 Responses to “যশোরে ৮৭ হাজার পরিবার ১০ টাকার চাল বঞ্চিত”
Post a Comment