Wednesday, October 12, 2016
ইংল্যান্ডকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বাংলাদেশ
Wednesday, October 12, 2016 by Unknown
ইংল্যান্ডকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বাংলাদেশ
এই মুশফিকুর রহিমকেই তো খুঁজছিল সবাই! যার প্রতিটি শটে থাকবে আত্মবিশ্বাস। নিখুঁত ব্যাটিংয়ের প্রতিচ্ছবি। ইংল্যান্ডের সামনে ২৭৮ রানের লক্ষ্য দিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের স্বপ্ন এখন জীবন্ত। মুশফিক আর তাঁর অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংসই সেটার প্রাণভোমরা।
২৫তম ওভারে দলের ১২২ রানে মাহমুদউল্লাহর বিদায়, এরপরই উইকেটে আসেন মুশফিক। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখেছেন সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান আর নাসির হোসেনের বিদায়। কিন্তু তিনি উইকেটে ছিলেন ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। ১৯২ রানে সপ্তম উইকেটের পতন। মুশফিক তাতেও দমে যাননি। অষ্টম উইকেটে নবীন মোসাদ্দেককে নিয়ে গড়লেন ৮৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ইংল্যান্ডের সামনে তাতে যেন রানের পাহাড়ই দাঁড়িয়ে গেল।
এখনকার আক্রমণাত্মক ক্রিকেট মাথায় রেখেও এই স্কোরকে ‘রানের পাহাড়’ বলতে হচ্ছে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে যে পরে ব্যাট করে সর্বোচ্চ ২২৬ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই সেটা করে দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের মাঠে রান তাড়া করে জেতার নতুন রেকর্ড গড়ে ফেলবে না তো ইংল্যান্ড! নাকি রাতটা হবে বাংলাদেশের?
বাংলাদেশের ইনিংসে বল মাঝে মাঝে যে রকম ধীর হয়ে আসছিল, ইংল্যান্ডের স্পিনাররা বলে যে রকম সাপের মতো বাঁক খাওয়ালেন, সাকিব আল হাসান-মোসাদ্দেক হোসেনরা তাতে ভালো কিছুর আশা করতেই পারেন। গত ম্যাচে ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া নাসিরও তো আছেন। ব্যাটসম্যানরা তাঁদের কাজটা করে দেওয়ার পর এখন বোলারদের ওপরই স্বপ্ন সত্যি করার ভার।
টসের সময় উইকেটের চেহারা দেখে খুশি হয়ে যাওয়ার কথা ব্যাটসম্যানদের। টানা দুই দিনের বেশি সময় কাভারে ঢাকা থাকার পরও কি রকম শুকনো উইকেট! প্রেসবক্স থেকে দেখেও সে রকমই মনে হচ্ছিল। এই উইকেটে ব্যাটিং কঠিন হওয়ার কথা নয়।
টসে জিতে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার তবু নিলেন ফিল্ডিং। কারণটা পরিষ্কার হতে লাগল ম্যাচের দশম ওভার থেকেই। মঈন আলীর বলে টার্নের ইঙ্গিত। বল পড়ে গতি হারাতে লাগল। যত সময় গড়ায়, ব্যাটসম্যানদের জন্য উইকেট যেন ততই মরীচিকা! সেটা না হলে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের সামনে বাংলাদেশের দেওয়া লক্ষ্যটা আরও বড়ও হতে পারত। তবে যা হয়েছে, জয়ের স্বপ্ন দেখতে বাধা নেই তাতেও। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এখন বোলারদের দিকে তাকিয়ে সবাই।
ইমরুল কায়েস, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ—তিনজনই উইকেটে থিতু হয়েও আউট হয়েছেন প্রায় একইভাবে; বলের গতিতে বিভ্রান্ত হয়ে। বেন স্টোকসের বলে স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে মাত্র চার রানের জন্য ফিফটি করতে পারেননি ইমরুল। অথচ এর আগে ওভারেই প্লাঙ্কেটকে মারা দুর্দান্ত ছক্কায় মনে করিয়ে দিয়েছিলেন সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে করা নিজের সেঞ্চুরির ইনিংসটাকে।
কাভারে তামিমের (৪৫) দেওয়া ক্যাচটাও অনেকটা একই রকম বিভ্রান্তিতে মোড়ানো। লেগ স্পিনার আদিল রশিদের বলটা ছিল গুগলি। রশিদের বলেই শর্ট কাভারে ক্যাচ দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহও। তবে এর আগের বলে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মেরেছেন।
এখান থেকেই একটা চেষ্টা করলেন সাব্বির। চতুর্থ উইকেটে মুশফিককে নিয়ে গড়লেন ৫৪ রানের জুটি। প্রতিটা রানেই কী সাবলীল! সেই ইনিংসটা শেষ হলো আদিল রশিদের দারুণ এক ডেলিভারিতে। সাব্বির তখন ফিফটি থেকে মাত্র এক রান দূরে।
দায়িত্বটা শেষ পর্যন্ত নিলেন নিজেকে খুঁজে ফেরা মুশফিক। গত বছর নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এরপর থেকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না আসল মুশফিককে। সর্বশেষ সাত ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেছেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ইনিংসে। আজ খেললে কামব্যাক ইনিংসটাই। ৬২ বলে অপরাজিত ৬৭। চার বাউন্ডারির সঙ্গে এক ছক্কা। ওকসের বলে ব্যক্তিগত ৪৪ রানে স্টোকসের হাতে জীবন পেয়েছিলেন। পরের বলটাকেই ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা বানিয়ে উদ্যাপন করেছেন সেটা।
এখন আরেকটি উদ্যাপনের অপেক্ষা। সে উদ্যাপন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৭/৬ (তামিম ৪৫, ইমরুল ৪৬, সাব্বির ৪৯, মাহমুদউল্লাহ ৬, মুশফিক ৬৭*, সাকিব ৪, নাসির ৪, মোসাদ্দেক ৩৮; রশিদ ৪/৪৩, স্টোকস১/২৪, আলী ১/৪২)
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

0 Responses to “ইংল্যান্ডকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বাংলাদেশ”
Post a Comment