Thursday, October 13, 2016
আন্তর্জাতিক জঙ্গি লিবদীর সঙ্গে ব্যবসায়ী মঞ্জুরের যোগসূত্র
Thursday, October 13, 2016 by Unknown
ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন হারাকাত আল শাবাব আল
মুজাহিদীনের আদলে প্রতিষ্ঠা করা শহীদ হামজা ব্রিগেডকে (এসএইচবি) অর্থায়ন
করেন ঢাকার ব্যবসায়ী মঞ্জুর এলাহী। সশস্ত্র এ জঙ্গি সংগঠনের ব্যাংক হিসাবে ৫
লাখ টাকা দেন তিনি। রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা এ ব্যবসায়ীর সঙ্গে
আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেতা আল্লামা লিবদীর যোগসূত্র রয়েছে। লিবদীও এসএইচবি
সংগঠনকে অর্থ দিয়ে আসছিল। মঞ্জুরের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হবে।
র্যাবের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান যুগান্তরকে বলেন,
২০১৫ সালের ২৩ ফেব্র“য়ারি চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও হাটহাজারী মডেল থানায় করা
দুটি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি মঞ্জুর এলাহী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পলাতক
ছিলেন। বর্তমানে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে কঠোর পরিণতির কথা আন্তর্জাতিক জঙ্গি
লিবদীর সঙ্গে ব্যবসায়ী মঞ্জুরের যোগসূত্র ভেবে দেশত্যাগের পরিকল্পনা করেন এ
ব্যবসায়ী। বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে জানতে পেরে তাকে ধরতে র্যাবের
গোয়েন্দারা ফাঁদ পাতেন। একপর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর বুধবার তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কারাগারে
পাঠানোর আদেশ দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাবের গোয়েন্দাদের কাছে
ব্যবসায়ী মঞ্জুর এলাহী জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়টি স্বীকার করেন। হামজা
ব্রিগেডকে ইসলামী ব্যাংকের উত্তরা শাখায় থাকা তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৪ লাখ ২০
হাজার টাকা দেন তিনি। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংগঠনের নেতা
মনিরুজ্জামান মাসুদ ওরফে ডনের চট্টগ্রাম ওআর নিজাম রোডের ইসলামী ব্যাংকের
শাখায় (সানজীদা এন্টারপ্রাইজ-চলতি হিসাব ২০৫০.৩০৪০.১০০০.৫০০১৮) ওই টাকা
দেয়া হয়। আর নগদ দেন ৮০ হাজার টাকা। ডন ওই টাকা মোজাহের নামে আরেক জঙ্গিকে
দেয়। পাহাড়ি এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির জন্য এ টাকায় অস্ত্র কেনা হয়েছিল।
মোজাহের শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অস্ত্র সরবরাহ করত। গোয়েন্দারা জানান,
ব্যবসায়ী মঞ্জুরের ব্যাংক হিসাবটি জব্দ করা হবে।
চট্টগ্রামের র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ব্যবসায়ী মঞ্জুর এলাহী গার্মেন্ট সামগ্রীর ব্যবসা করেন। কিছুদিন ধরে তিনি কোমলপানীয়র ব্যবসা শুরু করেন। সম্প্রতি র্যাব গোপন সূত্রে তার সম্ভাব্য অবস্থান জানতে পারে। পরে তার ওপর প্রযুক্তিগত নজরদারি রাখে। একপর্যায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের অধিনায়ক আরও জানান, বিএনপি-জোট সরকারের আমলে এ অঞ্চলে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিল মঞ্জুর। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের কালাপানিয়া গ্রামের অধ্যাপক সুলতান আহমেদের ছেলে মঞ্জুরের বাড়িতে জঙ্গি সংগঠনের লোকজনের আসা-যাওয়া ছিল। দীর্ঘদিন তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য স্বীকার করেন মঞ্জুর।
র্যাবের একজন সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে শহীদ হামজা ব্রিগেডের জন্য টাকা আসে। দেশীয় একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের কিছুসংখ্যক সদস্য জড়িত এ সংগঠনে। ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনটির কতিপয় নেতা গোপনে শহীদ হামজা ব্রিগেডকে নতুন করে সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি উত্তরায় ব্যবসায়ী মঞ্জুরের সঙ্গে কয়েকজন গোপনে দেখাও করেছে। এ সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত রেকর্ড আছে র্যাবের কাছে।
র্যাবের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সংগঠনটি নতুন নতুন টার্গেট নিয়ে বাংলাদেশে আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি নিউ জেএমবি ও অন্য জঙ্গি সংগঠনগুলোর পুরো নেটওয়ার্ক আইনশৃংখলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এ কারণে ওই ছাত্র সংগঠনটি হামজা ব্রিগেডকে নতুন মোড়কে রূপ দেয়ার পরিকল্পনা করে। আর এতে একজন কারাবন্দি জঙ্গি নেতার যোগসূত্রও পাওয়া গেছে। তিনি হলেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানী। সংগঠনটি হোয়াইট, ব্লু ও গ্রিন নামে তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করে। এর মধ্যে হোয়াইটের কমান্ডার খালিদ। তার দলের সদস্যরা হলেন : শাহেদ, সাদ ও সুজন। ব্লু’র কমান্ডার হলেন তারেক। তার দলে আছেন- আজিজ, আজিজুল, সোহেল, আনোয়ার, সৌরভ ও সবুজ। গ্রিনের কমান্ডার হলেন মাসুদ। তার দলে আছেন- মনিরুজ্জামান, সামসুদ্দিন, তোহা, নূর, সামসু ও মুহিব। বেশিরভাগ সদস্য সাংগঠনিক নামে পরিচিত। র্যাবের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অর্থ দেয়ার পেছনে আরও দেশী-বিদেশী কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। তবে মালয়েশিয়ার আরও একটি কানেকশনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া আল্লামা লিবদী ও দুবাই-মালয়েশিয়ায় থাকা এক বড়ভাইয়ের সঙ্গে বিশেষ অ্যাপসে কথাবার্তা বলতেন ব্যবসায়ী মঞ্জুর এলাহী। হামজা ব্রিগেডের তথ্য জেনে যাওয়ায় ‘লাভ ফর রোহিঙ্গা (এলএফআর)’ নামে একটি এনজিও গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল তারা। কিন্তু সে চেষ্টা ভেস্তে যায়। এ সংগঠনের প্রতিটি উইংয়ে রয়েছে সাতজনের সামরিক সদস্য, যারা ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
কারাগারে মঞ্জুর এলাহী : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেফতার ব্যবসায়ী মঞ্জুর এলাহীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার তাকে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি চন্দন দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, বাঁশখালী ও হাটহাজারী থানার দুটি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন মঞ্জুর। এ দুটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
Tags:
International
চট্টগ্রামের র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ব্যবসায়ী মঞ্জুর এলাহী গার্মেন্ট সামগ্রীর ব্যবসা করেন। কিছুদিন ধরে তিনি কোমলপানীয়র ব্যবসা শুরু করেন। সম্প্রতি র্যাব গোপন সূত্রে তার সম্ভাব্য অবস্থান জানতে পারে। পরে তার ওপর প্রযুক্তিগত নজরদারি রাখে। একপর্যায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের অধিনায়ক আরও জানান, বিএনপি-জোট সরকারের আমলে এ অঞ্চলে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিল মঞ্জুর। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের কালাপানিয়া গ্রামের অধ্যাপক সুলতান আহমেদের ছেলে মঞ্জুরের বাড়িতে জঙ্গি সংগঠনের লোকজনের আসা-যাওয়া ছিল। দীর্ঘদিন তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য স্বীকার করেন মঞ্জুর।
র্যাবের একজন সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে শহীদ হামজা ব্রিগেডের জন্য টাকা আসে। দেশীয় একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের কিছুসংখ্যক সদস্য জড়িত এ সংগঠনে। ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনটির কতিপয় নেতা গোপনে শহীদ হামজা ব্রিগেডকে নতুন করে সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি উত্তরায় ব্যবসায়ী মঞ্জুরের সঙ্গে কয়েকজন গোপনে দেখাও করেছে। এ সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত রেকর্ড আছে র্যাবের কাছে।
র্যাবের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সংগঠনটি নতুন নতুন টার্গেট নিয়ে বাংলাদেশে আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি নিউ জেএমবি ও অন্য জঙ্গি সংগঠনগুলোর পুরো নেটওয়ার্ক আইনশৃংখলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এ কারণে ওই ছাত্র সংগঠনটি হামজা ব্রিগেডকে নতুন মোড়কে রূপ দেয়ার পরিকল্পনা করে। আর এতে একজন কারাবন্দি জঙ্গি নেতার যোগসূত্রও পাওয়া গেছে। তিনি হলেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানী। সংগঠনটি হোয়াইট, ব্লু ও গ্রিন নামে তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করে। এর মধ্যে হোয়াইটের কমান্ডার খালিদ। তার দলের সদস্যরা হলেন : শাহেদ, সাদ ও সুজন। ব্লু’র কমান্ডার হলেন তারেক। তার দলে আছেন- আজিজ, আজিজুল, সোহেল, আনোয়ার, সৌরভ ও সবুজ। গ্রিনের কমান্ডার হলেন মাসুদ। তার দলে আছেন- মনিরুজ্জামান, সামসুদ্দিন, তোহা, নূর, সামসু ও মুহিব। বেশিরভাগ সদস্য সাংগঠনিক নামে পরিচিত। র্যাবের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অর্থ দেয়ার পেছনে আরও দেশী-বিদেশী কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। তবে মালয়েশিয়ার আরও একটি কানেকশনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া আল্লামা লিবদী ও দুবাই-মালয়েশিয়ায় থাকা এক বড়ভাইয়ের সঙ্গে বিশেষ অ্যাপসে কথাবার্তা বলতেন ব্যবসায়ী মঞ্জুর এলাহী। হামজা ব্রিগেডের তথ্য জেনে যাওয়ায় ‘লাভ ফর রোহিঙ্গা (এলএফআর)’ নামে একটি এনজিও গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল তারা। কিন্তু সে চেষ্টা ভেস্তে যায়। এ সংগঠনের প্রতিটি উইংয়ে রয়েছে সাতজনের সামরিক সদস্য, যারা ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
কারাগারে মঞ্জুর এলাহী : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেফতার ব্যবসায়ী মঞ্জুর এলাহীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার তাকে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি চন্দন দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, বাঁশখালী ও হাটহাজারী থানার দুটি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন মঞ্জুর। এ দুটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)


0 Responses to “আন্তর্জাতিক জঙ্গি লিবদীর সঙ্গে ব্যবসায়ী মঞ্জুরের যোগসূত্র”
Post a Comment