Friday, October 14, 2016
শি জিনপিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা সম্পর্কের নতুন দিগন্তে দুই দেশ
Friday, October 14, 2016 by Unknown
শি জিনপিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা
সম্পর্কের নতুন দিগন্তে দুই দেশ
কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় একমত শেখ হাসিনা ও শি জিনপিং
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংকে স্বাগত জানিয়ে করমর্দন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -যুগান্তর
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কৌশলগত
অংশীদারিত্বে রূপান্তরে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা ও সফররত চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ ব্যাপারে মতৈক্য হয়। এর মাধ্যমে সম্পর্ককে নতুন এক
উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন দুই নেতা। বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ আমরা সহযোগিতার নিবিড় অংশীদারিত্বকে
কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হয়েছি। এ কৌশলগত অংশীদারিত্বের
অধীনে আমরা দু’দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করব।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে দুই নেতা একান্তে কিছু সময় কথা বলেন। এরপর বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের পর দু’দেশের মধ্যে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। শেখ হাসিনা ও শি জিনপিং এসব চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। এর মধ্যে ১২টি ঋণ ও কাঠামো চুক্তি বাকিগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। যেসব খাতে এসব চুক্তি হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্লু ইকোনমি, বিসিআইএম-ইসি, সড়ক ও সেতু, রেলওয়ে, বিদ্যুৎ, মেরিটাইম, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প উন্নয়ন, সামর্থ্য বৃদ্ধি ও সিল্ক উন্নয়ন। এদিকে সোনারগাঁও হোটেলে বেসরকারি খাতে ১৩ বিলিয়ন ডলারের ১৩টি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। দুই নেতা ছয়টি প্রকল্পও উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে দুই নেতা একান্তে কিছু সময় কথা বলেন। এরপর বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের পর দু’দেশের মধ্যে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। শেখ হাসিনা ও শি জিনপিং এসব চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। এর মধ্যে ১২টি ঋণ ও কাঠামো চুক্তি বাকিগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। যেসব খাতে এসব চুক্তি হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্লু ইকোনমি, বিসিআইএম-ইসি, সড়ক ও সেতু, রেলওয়ে, বিদ্যুৎ, মেরিটাইম, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প উন্নয়ন, সামর্থ্য বৃদ্ধি ও সিল্ক উন্নয়ন। এদিকে সোনারগাঁও হোটেলে বেসরকারি খাতে ১৩ বিলিয়ন ডলারের ১৩টি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। দুই নেতা ছয়টি প্রকল্পও উদ্বোধন করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর যৌথ বিবৃতি পড়ে শোনান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি
বলেন, ‘আমাদের সবার প্রত্যাশিত এ সফর। আমরা এক চীন নীতির প্রতি আমাদের
সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একে অন্যের ইস্যুতে নিবিড়ভাবে কাজ করতে এবং সমর্থন
দেয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন- বাণিজ্য,
বিনিয়োগ, অবকাঠামো, শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও
কৃষিতে একসঙ্গে কাজ করব।
শি জিনপিং বলেন, ‘আমরা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের জায়গা থেকে কৌশলগত সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছি।’ চীনের প্রেসিডেন্ট বেলা ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শিমুল কক্ষে একান্ত বৈঠকে অংশ নেন দুই নেতা। পরে চামেলি কক্ষে দু’দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর হয় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের এ সফরকে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পর এক বিবৃতিতে শি জিনপিং বলেছেন, তার দেশ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে মনে করে। ৮০ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন শি, যে দলে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছাড়াও কয়েকজন মন্ত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া তার সঙ্গে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে এসেছে।
এ সফরে শি জিনপিংয়ের নিজের উদ্যোগে গঠিত বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভে বাংলাদেশের যোগদানের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয়। নিজ দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্যে ৬৫টি দেশকে চীনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে ২০১৩ সালে এ উদ্যোগ নেন শি জিনপিং। এ চুক্তির ফলে চীন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, শ্রীলংকা ও ভারতের মধ্যে মেরিটাইম সিল্ক রোডে যোগদান করল বাংলাদেশ।
তার আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দু’দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। চীনের প্রেসিডেন্টের বিমান বাংলাদেশের আকাশসীমায় পৌঁছলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জেট তাকে এসকর্ট করে নিয়ে আসে। বিমানবন্দরে চীনের প্রেসিডেন্টকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। সেখানে তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
চীনের কোনো প্রেসিডেন্ট ৩০ বছর পর এই প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। ফলে এ সফরকে ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করা হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় লা মেরিডিয়ান হোটেলে অবস্থান করছেন। বিকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করেন চীনের প্রেসিডেন্ট। তারপর রাষ্ট্রপতি তার অতিথির সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন। চীনের প্রেসিডেন্ট আজ সকালে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তারপর তিনি সরাসরি হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে সেখান থেকে ভারতের পর্যটননগরী গোয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। বিমানবন্দরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কম্বোডিয়া সফর শেষে বাংলাদেশে আসেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দুই নেতা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেনের টানেল, পায়রায় ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সড়ক অবকাঠামোসহ ছয়টি প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশে ইতিপূর্বে সাতটি বড় বড় সেতু এবং একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণ করে দিয়েছে চীন। কিন্তু এবার তারা বাংলাদেশে বড় বড় প্রকল্পে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়ার চুক্তি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীন সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।
লালগালিচা সংবর্ধনা : শি জিনপিংকে বহনকারী এয়ার চায়নার স্পেশাল ভিভিআইপি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে। কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে বিমান থেকে নেমে এলে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ চীনের প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজটি বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশের পর তাকে পাহারা দিয়ে বিমানবন্দরে নিয়ে আসে বিমানবাহিনীর চারটি জেট ফাইটার। অবতরণের পর রাষ্ট্রীয় এ অতিথিকে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। লাল পাড়ের সবুজ শাড়ি পরা একটি শিশু ফুল দিয়ে অতিথিকে বরণ করে নেয়ার পর লালগালিচায় হেঁটে তিনি সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান। তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল এ সময় চীনের প্রেসিডেন্টকে গার্ড অব অনার দেয়। বাজানো হয় দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম এবং তিন বাহিনীর প্রধান এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চীনের প্রেসিডেন্ট হোটেল লা মেরিডিয়ানে এসে পৌঁছান। এ সফরে সেখানেই থাকছেন তিনি। তার আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল দু’দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি দিয়ে সাজানো হয়। বিমানবন্দর ও হোটেল লা মেরিডিয়ানের পথে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা ব্যানারে দেখা যায় সম্ভাষণ- ‘স্বাগতম হে মহামান্য অতিথি।’
‘ওয়ান-বেল্ট, ওয়ান রোড’ নীতি ধরে এগিয়ে যাওয়া চীনের সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে শি জিনপিংয়ের এ ঢাকা সফর। ১৯৮৬ সালের পর বাংলাদেশে আসা প্রথম চীনা রাষ্ট্রপ্রধান তিনি। আর এমন একসময় তিনি ঢাকা এলেন, যখন বাংলাদেশ নিু মধ্যম আয়ের কাতার থেকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শিল্পায়ন আর বিনিয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের এ সফরকে সম্পর্কের ‘নতুন যুগের সূচনা’ বলছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শি জিনপিংও দু’দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশার কথা বলেছেন।
এ সফরে সরকারি প্রতিনিধিদলে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ছাড়াও কয়েকজন মন্ত্রী রয়েছেন। তারা হলেন : চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য ওয়াং হুনিং, পলিটিক্যাল ব্যুরোর আরেক সদস্য লি ঝানসু, স্টেট কাউন্সিলর ইয়ং জেইছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনমন্ত্রী জু শাওশি, অর্থমন্ত্রী লোও জিউই, বাণিজ্যমন্ত্রী গাও হুচ্যাঙ্গ, মন্ত্রী পর্যায়ের আর্থিক ও অর্থনৈতিক অফিসের পরিচালক লিউ হি, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের প্রধান ডিং জুইক্সিন, ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত মা মিমিংকিয়াঙ্গ, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরোর মহাপরিচালক ওয়াং সাউজুন এবং সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কং জুয়াইউ। চীনা প্রেসিডেন্টের চলাচলের জন্য বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।
স্পিকারের সাক্ষাৎ : চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের সঙ্গে জাতীয় সংসদের সম্পর্ক নিবিড় করার প্রস্তাব দিয়েছেন সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। শুক্রবার বিকালে লা মেরিডিয়ান হোটেলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে স্পিকার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস অব চায়না এবং আমাদের জাতীয় সংসদের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার বিষয়টি আমাদের আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। আমাদের সংসদ সদস্যরা যাতে আরও এক্সচেঞ্জ ভিজিটে চীনে যাওয়ার সুযোগ পান এবং চীনের কংগ্রেস সদস্যরা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ভিজিট করতে পারেন সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি- এ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিনিময়ের মাধ্যমে দু’দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও আইনসভার বিষয়গুলো জানা যাবে। এ ছাড়া সংসদকে কীভাবে আরও কার্যকর করা যায় সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্পিকার। বৈঠকে সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ এবং সংসদ সদস্য ফারুক খান উপস্থিত ছিলেন।
আজকের কর্মসূচি : সাভার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আজ সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসছেন বাংলাদেশ সফরত চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, শনিবার সকাল ৯টায় চীনের প্রেসিডেন্ট ঢাকা থেকে সড়কপথে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে পৌঁছবেন। ইতিমধ্যে তার আগমন উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে ধোয়া-মোছা ও রং-তুলির কাজ শেষ হয়েছে। এ উপলক্ষে ৯ অক্টোবর থেকে স্মৃতিসৌধে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। স্মৃতিসৌধে পৌঁছে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ সময় চীনের প্রেসিডেন্টকে তিন বাহিনীর গার্ড অব অনার দেয়া হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করবেন। পরে স্মৃতিসৌধে একটি উদয়পদ্মা গাছের চারা রোপণ করবেন তিনি। এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জাতীয় স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন উপলক্ষে এর আশপাশে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিনুল কাদির। তিনি জানান, স্মৃতিসৌধে অতিথির আগমন উপলক্ষে আমিনবাজার থেকে নবীনগর পর্যন্ত ২০টি গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার) তুলে ফেলা হয়েছে।
এদিকে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাবেন। সেখান থেকে তিনি বিশেষ ফ্লাইটে ভারতের গোয়ায় যাবেন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য।
Tags:
Bangladesh
শি জিনপিং বলেন, ‘আমরা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের জায়গা থেকে কৌশলগত সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছি।’ চীনের প্রেসিডেন্ট বেলা ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শিমুল কক্ষে একান্ত বৈঠকে অংশ নেন দুই নেতা। পরে চামেলি কক্ষে দু’দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর হয় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের এ সফরকে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পর এক বিবৃতিতে শি জিনপিং বলেছেন, তার দেশ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে মনে করে। ৮০ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন শি, যে দলে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছাড়াও কয়েকজন মন্ত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া তার সঙ্গে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে এসেছে।
এ সফরে শি জিনপিংয়ের নিজের উদ্যোগে গঠিত বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভে বাংলাদেশের যোগদানের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয়। নিজ দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্যে ৬৫টি দেশকে চীনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে ২০১৩ সালে এ উদ্যোগ নেন শি জিনপিং। এ চুক্তির ফলে চীন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, শ্রীলংকা ও ভারতের মধ্যে মেরিটাইম সিল্ক রোডে যোগদান করল বাংলাদেশ।
তার আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দু’দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। চীনের প্রেসিডেন্টের বিমান বাংলাদেশের আকাশসীমায় পৌঁছলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জেট তাকে এসকর্ট করে নিয়ে আসে। বিমানবন্দরে চীনের প্রেসিডেন্টকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। সেখানে তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
চীনের কোনো প্রেসিডেন্ট ৩০ বছর পর এই প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। ফলে এ সফরকে ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করা হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় লা মেরিডিয়ান হোটেলে অবস্থান করছেন। বিকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করেন চীনের প্রেসিডেন্ট। তারপর রাষ্ট্রপতি তার অতিথির সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন। চীনের প্রেসিডেন্ট আজ সকালে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তারপর তিনি সরাসরি হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে সেখান থেকে ভারতের পর্যটননগরী গোয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। বিমানবন্দরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কম্বোডিয়া সফর শেষে বাংলাদেশে আসেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দুই নেতা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেনের টানেল, পায়রায় ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সড়ক অবকাঠামোসহ ছয়টি প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশে ইতিপূর্বে সাতটি বড় বড় সেতু এবং একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণ করে দিয়েছে চীন। কিন্তু এবার তারা বাংলাদেশে বড় বড় প্রকল্পে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়ার চুক্তি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীন সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।
লালগালিচা সংবর্ধনা : শি জিনপিংকে বহনকারী এয়ার চায়নার স্পেশাল ভিভিআইপি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে। কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে বিমান থেকে নেমে এলে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ চীনের প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজটি বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশের পর তাকে পাহারা দিয়ে বিমানবন্দরে নিয়ে আসে বিমানবাহিনীর চারটি জেট ফাইটার। অবতরণের পর রাষ্ট্রীয় এ অতিথিকে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। লাল পাড়ের সবুজ শাড়ি পরা একটি শিশু ফুল দিয়ে অতিথিকে বরণ করে নেয়ার পর লালগালিচায় হেঁটে তিনি সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান। তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল এ সময় চীনের প্রেসিডেন্টকে গার্ড অব অনার দেয়। বাজানো হয় দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম এবং তিন বাহিনীর প্রধান এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চীনের প্রেসিডেন্ট হোটেল লা মেরিডিয়ানে এসে পৌঁছান। এ সফরে সেখানেই থাকছেন তিনি। তার আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল দু’দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি দিয়ে সাজানো হয়। বিমানবন্দর ও হোটেল লা মেরিডিয়ানের পথে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা ব্যানারে দেখা যায় সম্ভাষণ- ‘স্বাগতম হে মহামান্য অতিথি।’
‘ওয়ান-বেল্ট, ওয়ান রোড’ নীতি ধরে এগিয়ে যাওয়া চীনের সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে শি জিনপিংয়ের এ ঢাকা সফর। ১৯৮৬ সালের পর বাংলাদেশে আসা প্রথম চীনা রাষ্ট্রপ্রধান তিনি। আর এমন একসময় তিনি ঢাকা এলেন, যখন বাংলাদেশ নিু মধ্যম আয়ের কাতার থেকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শিল্পায়ন আর বিনিয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের এ সফরকে সম্পর্কের ‘নতুন যুগের সূচনা’ বলছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শি জিনপিংও দু’দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশার কথা বলেছেন।
এ সফরে সরকারি প্রতিনিধিদলে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ছাড়াও কয়েকজন মন্ত্রী রয়েছেন। তারা হলেন : চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য ওয়াং হুনিং, পলিটিক্যাল ব্যুরোর আরেক সদস্য লি ঝানসু, স্টেট কাউন্সিলর ইয়ং জেইছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনমন্ত্রী জু শাওশি, অর্থমন্ত্রী লোও জিউই, বাণিজ্যমন্ত্রী গাও হুচ্যাঙ্গ, মন্ত্রী পর্যায়ের আর্থিক ও অর্থনৈতিক অফিসের পরিচালক লিউ হি, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের প্রধান ডিং জুইক্সিন, ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত মা মিমিংকিয়াঙ্গ, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরোর মহাপরিচালক ওয়াং সাউজুন এবং সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কং জুয়াইউ। চীনা প্রেসিডেন্টের চলাচলের জন্য বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।
স্পিকারের সাক্ষাৎ : চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের সঙ্গে জাতীয় সংসদের সম্পর্ক নিবিড় করার প্রস্তাব দিয়েছেন সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। শুক্রবার বিকালে লা মেরিডিয়ান হোটেলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে স্পিকার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস অব চায়না এবং আমাদের জাতীয় সংসদের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার বিষয়টি আমাদের আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। আমাদের সংসদ সদস্যরা যাতে আরও এক্সচেঞ্জ ভিজিটে চীনে যাওয়ার সুযোগ পান এবং চীনের কংগ্রেস সদস্যরা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ভিজিট করতে পারেন সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি- এ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিনিময়ের মাধ্যমে দু’দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও আইনসভার বিষয়গুলো জানা যাবে। এ ছাড়া সংসদকে কীভাবে আরও কার্যকর করা যায় সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্পিকার। বৈঠকে সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ এবং সংসদ সদস্য ফারুক খান উপস্থিত ছিলেন।
আজকের কর্মসূচি : সাভার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আজ সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসছেন বাংলাদেশ সফরত চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, শনিবার সকাল ৯টায় চীনের প্রেসিডেন্ট ঢাকা থেকে সড়কপথে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে পৌঁছবেন। ইতিমধ্যে তার আগমন উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে ধোয়া-মোছা ও রং-তুলির কাজ শেষ হয়েছে। এ উপলক্ষে ৯ অক্টোবর থেকে স্মৃতিসৌধে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। স্মৃতিসৌধে পৌঁছে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ সময় চীনের প্রেসিডেন্টকে তিন বাহিনীর গার্ড অব অনার দেয়া হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করবেন। পরে স্মৃতিসৌধে একটি উদয়পদ্মা গাছের চারা রোপণ করবেন তিনি। এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জাতীয় স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন উপলক্ষে এর আশপাশে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিনুল কাদির। তিনি জানান, স্মৃতিসৌধে অতিথির আগমন উপলক্ষে আমিনবাজার থেকে নবীনগর পর্যন্ত ২০টি গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার) তুলে ফেলা হয়েছে।
এদিকে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাবেন। সেখান থেকে তিনি বিশেষ ফ্লাইটে ভারতের গোয়ায় যাবেন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

0 Responses to “শি জিনপিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা সম্পর্কের নতুন দিগন্তে দুই দেশ ”
Post a Comment